জেলার সর্ববৃহৎ কাঁচা শাক-সবজির মহাস্থান হাট শীতকালীন সবজিতে ভরে উঠেছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা ভালো দামের আশায় তাদের উৎপাদিত সবজি হাটে নিয়ে আসেন। তবে বাজারে চাহিদার তুলনায় বেশি সরবরাহ ও আমদানি, সঙ্গে মজুতের সুবিধা না থাকায় শীতকালীন এ ভরা মৌসুমেও কৃষকরা লোকসান গুনছেন।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি প্রতি মণ (৪০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, যা দুই সপ্তাহ আগে ১,০০০–১,২০০ টাকা মণ ছিল। মুলা ৪০০–৬০০ টাকা মণ, যা আগের সপ্তাহে ৮০০–১,০০০ টাকা ছিল। পাতার কপি প্রতি পিস ৭–১৫ টাকা, সিম প্রতি কেজি ১৬ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা, পাতা পেঁয়াজ ৩০ টাকা, মিষ্টি লাউ ১৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নতুন আলুর আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে। আলু জাতভেদে ৫০০–১,২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ১,৬০০–২,০০০ টাকা ছিল। পাকা টমেটো ৭০ টাকা, কাঁচা টমেটো ২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৩০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। ধনিয়া পাতা ২০ টাকা কমে ১০ টাকা আঁটি, পেঁয়াজের ফুলকা কেজি প্রতি ৫০ টাকা কমে ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে রঙিলা জাতের বেগুনের দাম বেড়ে ৭০০–৯০০ টাকা মণ।
বগুড়া সদর উপজেলার কৃষক সিরাজুল ইসলাম, লুৎফর রহমান ও মিজানুর রহমান জানান, দুই সপ্তাহ আগে তারা ফুলকপি ১,২০০ টাকা মণ বিক্রি করেছেন। কিন্তু শুক্রবার ও শনিবার বিক্রি হয়েছে মাত্র ৮০–৯০ টাকায়। কৃষকরা দাবি করেন, এই দরে উৎপাদন, পরিবহন ও শ্রমের খরচও উঠছে না।
মহাস্থান হাটের আড়তদার বিশাল ভান্ডারের মালিক তাহেরুল ইসলাম বলেন, হাটে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪০টি আড়ত আছে। প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মোকামে অন্তত ৪০ ট্রাক শাকসবজি যাচ্ছে। তবে বাজারে আমদানি বেশি ও বেপারি না আসায় প্রতিদিন সবজির দাম কমছে। তিনি আরও জানান, কৃষকের কষ্টের কথা চিন্তা করে ঝুঁকি নিয়ে কাঁচামাল কেনা হলেও ব্যবসায়ী ও কৃষক উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

